Anisur Rahman Khandoker AnikAnisur Rahman Khandoker AnikAnisur Rahman Khandoker AnikAnisur Rahman Khandoker Anik

ANISUR RAHMAN
KHANDOKER ANIK

VISION FOR A BETTER TOMORROW

আমার অঙ্গীকার

আমার অঙ্গীকার

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় ভূমিকা রাখা।

তরুণ প্রজন্মের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নেতৃত্ব বিকাশে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া।

দেশ, সমাজ ও মানুষের পাশে থেকে সেবা, জবাবদিহি ও ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতি এগিয়ে নেওয়া।

নিউজ

নিউজ

ছাত্রদল নেতা অনিকের সমর্থনে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সাড়া
Dhaka Times

ছাত্রদল নেতা অনিকের সমর্থনে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সাড়া

Read moreOpen article
জুলাইয়ের মঞ্চে মানুষের কথা বলাই ছিল লক্ষ্য: অনিক
BSS News

জুলাইয়ের মঞ্চে মানুষের কথা বলাই ছিল লক্ষ্য: অনিক

Read moreOpen article
ঢাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে ছাত্রদলের ক্যাম্পাস প্রচার
Jago News 24

ঢাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে ছাত্রদলের ক্যাম্পাস প্রচার

Read moreOpen article
নির্বাচনী ময়দানে তরুণদের পাশে অনিক
The Daily Campus

নির্বাচনী ময়দানে তরুণদের পাশে অনিক

Read moreOpen article
জাতীয় রাজনীতি ও জনসম্পৃক্ততার নতুন বার্তা
BSS News

জাতীয় রাজনীতি ও জনসম্পৃক্ততার নতুন বার্তা

Read moreOpen article
শিক্ষা ও ক্যাম্পাস ইস্যুতে অনিকের অবস্থান
Dhaka Mail

শিক্ষা ও ক্যাম্পাস ইস্যুতে অনিকের অবস্থান

Read moreOpen article
ক্যাম্পাস রাজনীতিতে ছাত্রদলের নতুন প্রস্তুতি
Dhaka Post

ক্যাম্পাস রাজনীতিতে ছাত্রদলের নতুন প্রস্তুতি

Read moreOpen article
জুলাই-উত্তর রাজনৈতিক বার্তায় অনিক
BSS Bangla

জুলাই-উত্তর রাজনৈতিক বার্তায় অনিক

Read moreOpen article
দৈনিক সংবাদে অনিকের রাজনৈতিক উপস্থিতি
Protidiner Sangbad

দৈনিক সংবাদে অনিকের রাজনৈতিক উপস্থিতি

Read moreOpen article
নির্বাচনী প্রচারণায় ছাত্রদলের অবস্থান
The Daily Campus

নির্বাচনী প্রচারণায় ছাত্রদলের অবস্থান

Read moreOpen article
ঢাবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক অগ্রযাত্রা
Ittefaq

ঢাবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক অগ্রযাত্রা

Read moreOpen article
রাজনীতি, ক্যাম্পাস ও তরুণ নেতৃত্বের নতুন প্রতিবেদন
Kalbela

রাজনীতি, ক্যাম্পাস ও তরুণ নেতৃত্বের নতুন প্রতিবেদন

Read moreOpen article
ছাত্রদল নেতা অনিকের সমর্থনে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সাড়া
Dhaka Times

ছাত্রদল নেতা অনিকের সমর্থনে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সাড়া

Read moreOpen article
জুলাইয়ের মঞ্চে মানুষের কথা বলাই ছিল লক্ষ্য: অনিক
BSS News

জুলাইয়ের মঞ্চে মানুষের কথা বলাই ছিল লক্ষ্য: অনিক

Read moreOpen article
ঢাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে ছাত্রদলের ক্যাম্পাস প্রচার
Jago News 24

ঢাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে ছাত্রদলের ক্যাম্পাস প্রচার

Read moreOpen article
নির্বাচনী ময়দানে তরুণদের পাশে অনিক
The Daily Campus

নির্বাচনী ময়দানে তরুণদের পাশে অনিক

Read moreOpen article
জাতীয় রাজনীতি ও জনসম্পৃক্ততার নতুন বার্তা
BSS News

জাতীয় রাজনীতি ও জনসম্পৃক্ততার নতুন বার্তা

Read moreOpen article
শিক্ষা ও ক্যাম্পাস ইস্যুতে অনিকের অবস্থান
Dhaka Mail

শিক্ষা ও ক্যাম্পাস ইস্যুতে অনিকের অবস্থান

Read moreOpen article
ক্যাম্পাস রাজনীতিতে ছাত্রদলের নতুন প্রস্তুতি
Dhaka Post

ক্যাম্পাস রাজনীতিতে ছাত্রদলের নতুন প্রস্তুতি

Read moreOpen article
জুলাই-উত্তর রাজনৈতিক বার্তায় অনিক
BSS Bangla

জুলাই-উত্তর রাজনৈতিক বার্তায় অনিক

Read moreOpen article
দৈনিক সংবাদে অনিকের রাজনৈতিক উপস্থিতি
Protidiner Sangbad

দৈনিক সংবাদে অনিকের রাজনৈতিক উপস্থিতি

Read moreOpen article
নির্বাচনী প্রচারণায় ছাত্রদলের অবস্থান
The Daily Campus

নির্বাচনী প্রচারণায় ছাত্রদলের অবস্থান

Read moreOpen article
ঢাবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক অগ্রযাত্রা
Ittefaq

ঢাবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক অগ্রযাত্রা

Read moreOpen article
রাজনীতি, ক্যাম্পাস ও তরুণ নেতৃত্বের নতুন প্রতিবেদন
Kalbela

রাজনীতি, ক্যাম্পাস ও তরুণ নেতৃত্বের নতুন প্রতিবেদন

Read moreOpen article

ভিডিও

ভিডিও

Anik gallery 1
Anik gallery 2
Anik gallery 3
Anik gallery 4
Anik gallery 5
Anik gallery 6
Anik gallery 7
Anik gallery 8
Anik gallery 9
Anik gallery 10

আর্টিক্যাল

আর্টিক্যাল

গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী ছাত্ররাজনীতি : আকাঙ্ক্ষা, সংকট ও সম্ভাবনা ।

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের সূচনা প্রহর থেকে শুরু করে বিজয়ের চূড়ান্ত লগ্ন পর্যন্ত বাংলাদেশের তরুণেরা রক্ত ও স্বকীয়তায় যে মহাকাব্য রচনা করেছে, তা আমাদের ছাত্ররাজনীতির নিভু নিভু শিখায় এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছিল। এ ভূখণ্ডের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট রূপ দৃশ্যমান হয় ১৯৫২ সালের রক্তঝরা ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা ও স্বাধীনতা-উত্তর প্রতিটি জাতীয় মহাসংকটে ছাত্ররাই অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ছাত্ররাজনীতির নামান্তরে যে কলুষিত ও পঁচে যাওয়া অধ্যায় তরুণ প্রজন্ম প্রত্যক্ষ করেছে, তা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে রাজনীতি শব্দটির প্রতিই চরম বিতৃষ্ণা ও গভীর অনীহা তৈরি করেছিল। বাংলাদেশের ছাত্র-রাজনীতিতে স্বৈরাচারের লাঠিয়াল হিসেবে কালো অধ্যায়ের সূচনা করা সেই চিহ্নিত সংগঠনটি আদালতের রায়ে আজ নিষিদ্ধ। জনরোষের প্রচণ্ড উত্তাপে ক্যাম্পাস থেকে তাদের বিতাড়ন, শীর্ষ নেতৃত্বের পলায়ন এবং আইনি নিষেধাজ্ঞার মধ্য দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে ছাত্ররাজনীতির প্রতি ক্ষণিকের জন্য হলেও এক আশার আলো উদিত হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, সেই আশার আলো স্থায়ী হওয়ার আগেই মূল সংকটটি ঘনীভূত হতে শুরু করে অভ্যুত্থানের ঠিক পর পরেই। একদিকে রক্তভেজা ক্যাম্পাসে অরাজনৈতিকতার ভণ্ড খোসায় মুড়ে ছাত্ররাজনীতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার চক্রান্ত শুরু হলো, অন্যদিকে 'ছাত্র প্রতিনিধি' বা 'হল সমন্বয়ক' নামধারী নতুন মুখোশে শুরু হলো আবাসিক হলগুলোতে সেই পুরোনো দখলদারিত্বেরই এক নব্য সংস্করণ।

অভ্যুত্থান-পরবর্তী এই মাহেন্দ্রক্ষণে যখন রাজনীতিমুক্ত নিরপেক্ষ শিক্ষার্থীদের রাজনীতিতে সক্রিয় ও গঠনমূলক অংশগ্রহণের কথা ছিল, তখনই আন্দোলনের সার্বজনীন প্ল্যাটফর্ম ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-কে একটি নির্দিষ্ট মহলের স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে কুক্ষিগত করা হলো অথচ এই প্ল্যাটফর্মটি ছিল দেশের প্রতিটি মুক্তিকামী শিক্ষার্থীর সার্বজনীন আমানত; যা একটি সুসংহত ও গণতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতির রূপরেখা প্রদান করতে পারত। অতপর, সংকীর্ণ রাজনৈতিক বিলাসিতার বলি হয়ে সেই রক্তে গড়া প্ল্যাটফর্মটি আজ সময়ের পরিক্রমায় বিলীন হওয়ার পথে।

শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক উত্থানের সবচেয়ে উর্বর ও উপযুক্ত সময়টিতে ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্ররাজনীতি বিরোধী মিছিল এবং অশ্রাব্য, কুরুচিপূর্ণ স্লোগানের মাধ্যমে রাজনীতির নতুন জাগরণকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করার পেছনে সবচেয়ে বড়ো দায় বর্তায় ‘বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির’ নামক সংগঠনটির ওপর। কেবল নিজেদের সুপ্ত রাজনৈতিক অভিসন্ধি ও গুপ্ত বাসনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে তারা একটি গোটা প্রজন্মের কাছে রাজনীতিকে বিষাক্ত করে তুলেছে। দীর্ঘকাল ধরে ছাত্রলীগের ছায়াতলে মানিয়ে নিয়ে তারা যে দখলদারির কৌশল রপ্ত করেছিল, তখন সেটাই প্রয়োগ করে ‘হল প্রতিনিধি’ ও ‘ব্যাচ প্রতিনিধি’র মোড়কে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের দখলদারিত্বের রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত করছে। সেসময় প্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা কোনো ছাত্রসংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে না, অথচ পরবর্তীতে নিজেদের সেই কথা তারা ভাঙতে দ্বিধা করেনি। নিজেদের ইসলামী আদর্শের ধারক দাবি করলেও রাজনীতিতে এমন চরম দ্বিচারিতাকে তারা এক শিল্পের পর্যায়ে রূপ দিয়েছে।

গণ-অভ্যুত্থানের রক্তস্নাত বার্তা আমাদের শিখিয়েছে যে, ছাত্ররাজনীতির মূল ভিত্তি হওয়া উচিত সাধারণ শিক্ষার্থীর অধিকার আদায় ও রাষ্ট্রীয় সংকটে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে দাবী বাস্তবায়ন। ছাত্ররাজনীতিকে একসময় পেটুয়া বাহিনী ও ক্ষমতার নগ্ন মহড়ার হাতিয়ারে রূপ দিয়ে অধিকার আদায়ের পথটি বিনষ্ট করেছিল নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনটি। আর আজ অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে শিবির সেই অধিকার আদায়ের ছাত্ররাজনীতিকে নাই করে দিয়ে ‘দাতব্য সংস্থা’য় রূপ দিতে চাইছে। যেন অধিকারভিত্তিক রাজনীতিকে মাথা তুলে দাঁড়াতে না দেওয়াই তাদের মূল উদ্দেশ্য, এই ক্ষেত্রে ছাত্রলীগ ও শিবির যেন একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। (যদিও বিভিন্ন দেশের যাকাতের তহবিল সংগ্রহ করে এই দাতব্য রাজনীতির গুঞ্জন সর্বত্র মুখরিত, তবুও দালিলিক প্রমাণের অভাব, তাই এড়িয়ে চলাই শ্রেয়)।

বর্তমান ছাত্ররাজনীতির এই অরাজক সংকটকে পুঁজি করে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগও নামে-বেনামে ক্যাম্পাসে সক্রিয় হওয়ার চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে তাদের বহু সুবিধাবাদী ক্যাডার এখনো আত্মগোপন করে আছে এবং নানামুখী ছদ্মবেশে সোচ্চার হওয়ার পথ খুঁজছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী অপরাপর প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক সংগঠনগুলো যখন সবাইকে সোচ্চার ও প্রকাশ্য রাজনীতির মূলধারায় আহ্বান জানাচ্ছে, তখন শিবিরের এই কুয়াশাচ্ছন্ন গুপ্ত রাজনীতিই ছাত্রলীগ উচ্ছেদের পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একটি ব্যাপার কিন্তু মধ্যাহ্নের সূর্যের মতো সুস্পষ্ট, শিবিরের বর্তমান বহু নেতাই পূর্বে ছাত্রলীগের পদ-পদবিতে ভূষিত ছিল। নিজেদের ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতা আড়াল করতে ছাত্রলীগের দাপ্তরিক কাগজ পত্র পুড়িয়ে দেওয়া বা লোপাট করার কাজটা তারা ৫ আগস্টেই সম্পাদন করে, অথচ এই প্রমাণগুলো অনেক বেশিই প্রয়োজন ছিলো, বিশেষত সিভি ও কমিটির তালিকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বলন্ত উদাহরণ টেনে বলা যায়, শিবির নেতা ও ডাকসুর তথাকথিত জিএস এস এম ফরহাদ আজও ছাত্রলীগ থেকে দাপ্তরিকভাবে পদত্যাগ করেনি। এমতাবস্থায় হলগুলোতে যে-সব ছাত্রলীগ নেতা চিহ্নিত করার চেষ্টা হচ্ছে, কাল যে তারা শিবিরের ব্যানারেই আত্মপ্রকাশ করবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে এই চরম অনিশ্চয়তা দূর করতে শিবিরের উচিত, অবিলম্বে তাদের হল কমিটি এবং তাদের অধীনে সক্রিয় সর্বস্তরের রাজনীতিকদের তালিকা প্রকাশ্যে আনা।

এই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রদীপ্ত অধ্যায় ছিল নারী শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণও সাহসী নেতৃত্ব। অথচ অভ্যুত্থান-পরবর্তী ছাত্ররাজনীতিতে সেই বোনদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয় নারী শিক্ষার্থীদের ওপর যে নিকৃষ্ট সাইবার বুলিং, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও চরিত্রহননের রাজনীতি চালানো হয়েছে, তাতে সাধারণ ছাত্রীরা নতুন করে রাজনীতির মাঠে পা রাখতে চরম আতঙ্কবোধ করছে। আর এই অনলাইন হেনস্তা ও নোংরামির সংস্কৃতি তৈরিতে নিষিদ্ধ সংগঠন এবং তথাকথিত ইসলামী ছাত্রসংগঠন কেউ কারও চেয়ে কম সক্রিয় নয়। রাজনীতি থেকে নারীদের পিছিয়ে পড়া সামগ্রিক ছাত্ররাজনীতির মৌলিক আকাঙ্ক্ষাকে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত করেছে।

সংকটের ব্যাপ্তি এখানেই শেষ নয়, শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক রূপ বুঝতে না পারার ব্যর্থতা, গভীর আস্থার সংকট এবং সর্বোপরি ক্যাম্পাসগুলোতে চরমপন্থা ও উগ্রবাদী শক্তির বিষবৃক্ষ রোপিত হওয়ার তীব্র আশঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে। দীর্ঘদিন রাজপথে লড়াই-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা থেকে এটুকুই বলা যায়, ক্যাম্পাসগুলোতে যদি সুস্থ, মুক্তচিন্তার ও গণতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতি না থাকে, তবে সেই শূন্যতায় উগ্রবাদ ও চরমপন্থা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে বাধ্য।

এই পর্বতসম সংকট দূরীকরণে সবচেয়ে ঐতিহাসিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে ছাত্রদল রাজপথে থেকেছে এবং সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছে। দেশের সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠন হিসেবে ছাত্রদল অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার অর্পিত দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থেকেছে। ছাত্রদলের নেতৃত্ব যদি একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী, জবাবদিহিতামূলক ও নীতিভিত্তিক গণতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতির পত্তন ঘটায়, তবেই এই অভ্যুত্থানের রক্তঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে। এর জন্য ক্ষমতার প্রতিযোগিতার পরিবর্তে প্রতিটি সাধারণ শিক্ষার্থীর অধিকার, মানসম্মত শিক্ষা, বৈশ্বিক মানের গবেষণা, সার্বিক কল্যাণ ও মৌলিক প্রশ্নগুলোকে ছাত্রদলের মূল অ্যাজেন্ডা বানাতে হবে। আমরা আশা রাখছি, এই ঐতিহাসিক সত্যগুলোকে সামনে রেখে ছাত্রদলের একটি পূর্ণাঙ্গ, দূরদর্শী ও আধুনিক গঠনতন্ত্র দ্রুত প্রতিষ্ঠা করবে।

নারী শিক্ষার্থীদের রাজনীতিতে নিরাপদ ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তাদের সর্বাত্মক নিরাপত্তা দিতে একটি আইটি সিকিউরিটি সেল প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা নিতে হবে, যা কেবল নারীদেরই নয়, বরং যেকোন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অপতথ্য ছড়ানো, সাইবার হ্যারাসমেন্ট কিংবা ডিজিটাল বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সার্বক্ষণিক ঢাল হিসেবে কাজ করবে। প্রয়োজনবোধে ছাত্রদলের শক্তিশালী লিগ্যাল সেলের সাথে সমন্বয় সাধন করে প্রতিটি সাধারণ শিক্ষার্থীর আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

গণ-অভ্যুত্থানের রক্তস্নাত ইতিহাসের দিকে তাকালে এক পরম সত্য প্রতিভাত হয়, এই লড়াই কেবল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা স্কুল-কলেজের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। রাজপথের প্রথম সারিতে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিল মাদ্রাসা শিক্ষার্থী এবং ইংলিশ মিডিয়ামের অগণিত তরুণ-তরুণী। অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, অভ্যুত্থান-পরবর্তী আলোচনার মূলধারায় এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে একপ্রকার পাদপ্রদীপের আড়ালে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, যা অভ্যুত্থানের অন্তর্ভুক্তি ও সার্বজনীন আকাঙ্ক্ষার সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে কওমি মাদ্রাসা ও ইংলিশ মিডিয়ামের এই সুবিশাল শক্তি, তথা শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার সুনিশ্চিত করতে সবচেয়ে সচেষ্ট ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে মারাত্মক ও কদর্য সংকট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে 'অপতথ্য' (Disinformation) এবং 'মবোক্রেসি' (Mobocracy)। অনিয়ন্ত্রিত মব-সংস্কৃতি এই অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ও মহৎ আকাঙ্ক্ষাকে গভীরভাবে ক্ষতবিক্ষত করেছে। চক্রান্তমূলকভাবে দুটি নির্দিষ্ট সংগঠন ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’র পবিত্র ব্যানারকে নিজেদের স্বার্থে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এই অনভিপ্রেত মবোক্রেসি চালিয়ে গেছে। এর একদিকে যেমন নিরপেক্ষ শিক্ষার্থীদের রাজনীতিতে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অলঙ্ঘনীয় দেয়াল তুলে দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে 'সাধারণ শিক্ষার্থী' পরিচয়ের আড়ালে শিবির নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় গোপন রাখার অপকৌশল অব্যাহত রেখেছে। একইসাথে, 'বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ' এবং পরবর্তীতে 'জাতীয় ছাত্রশক্তি' নামক সংগঠনগুলোও এই মব-উত্তেজনা সৃষ্টি ও অপচর্চায় কোনো অংশে পিছিয়ে থাকেনি। এই মবোক্রেসির মূল ইন্ধন বা জ্বালানি হিসেবে কাজ করেছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপতথ্য। রাজনীতিতে এই বিষাক্ত অপতথ্যের চক্রান্ত ও গুজব নস্যাৎ করতে ছাত্রদলকে অতি দ্রুত একটি নিজস্ব ‘ফ্যাক্ট-চেকিং সেল’ (Fact-Checking Cell) প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যা শিক্ষার্থীদের সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য চিনতে নির্ভীক সহায়কের ভূমিকা পালন করবে।

গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়েও আমাদের তরুণ প্রজন্মকে নিজস্ব জাতীয় সংস্কৃতির শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করে অপসংস্কৃতি ও বিদেশি কৃষ্টির দাসত্বে আটকে রাখার এক নিরন্তর প্রচেষ্টা আজও চলমান। একটি মুক্ত দেশের জাতীয় আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত প্রতিফলনে নিজেদের আবহমান সংস্কৃতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া ব্যতিরেকে কোনো জাতির মুক্তি সম্ভব নয়। এই সংকটময় মুহূর্তে প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনগুলোকে নিজেদের সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ ও পরিকল্পনা গড়ে তুলতে হবে। উল্লেখ্য, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মনোগ্রামের যে তিনটি উদীয়মান তারকা শোভা পায়, তার অন্যতম একটি স্তম্ভই হলো ‘প্রগতি’। তাই হাজার বছরের আবহমান এই জনপদের কৃষ্টি, ঐতিহ্য ও স্বকীয়তাকে বাঁচিয়ে রাখতে ছাত্রদলকেই সংস্কৃতির বাহক হয়ে অগ্রগামী দায়িত্ব নিতে হবে। প্রয়োজনে প্রতিটি ক্যাম্পাসে ‘কালচারাল সেন্টার’ গড়ে তুলে আমাদের চিরন্তন দেশীয় সংস্কৃতিকে নতুন সাজে তরুণদের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। আশার বিষয় হলো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে ইতোমধ্যে বৃহৎ পরিসরে একাধিক সফল আয়োজনের মাধ্যমে ছাত্রদল এই সংস্কৃতির পুনর্জাগরণের শুভ সূচনা করেছে।

একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক ছাত্ররাজনীতিতে ‘গবেষণা ও প্রকাশনা’ কেবল কোনো অলংকার নয়, বরং এক অপরিহার্য চালিকাশক্তি। কেবল রাজপথের স্লোগান কিংবা পেশিশক্তির মহড়ার গণ্ডি পেরিয়ে জ্ঞানভিত্তিক ও গবেষণামুখী রাজনীতির চর্চা ছাত্রসংগঠনগুলোকে যেমন বুদ্ধিভিত্তিকভাবে সমৃদ্ধ করবে, তেমনি দেশীয় ও জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণে সবচেয়ে সুদৃঢ় ভিত্তি এনে দেবে। যেকোনো ছোট-বড়ো সামাজিক বা রাজনৈতিক সংকট নিরসনে গবেষণাভিত্তিক তথ্য ও উপাত্তই কার্যকর সমাধান দিতে পারে। আগামীর তরুণ প্রজন্মের কাছে ছাত্রদল হবে অনুকরণীয় ও শিক্ষণীয় এক অনন্য রাজনৈতিক পাঠশালা, এই দৃঢ় বিশ্বাস থেকেই ছাত্রদল অতি দ্রুত একটি স্বতন্ত্র ‘গবেষণা ও প্রকাশনা সেল’ গঠন করবে, যা শুধু রাজনীতি নয়, বরং সমগ্র জাতির রাষ্ট্রচিন্তায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটাবে।

ছাত্ররাজনীতির ইতিবাচক পরিবর্তন কিংবা গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত মূল্যবোধ বাস্তবায়ন করতে হলে ছাত্রসংগঠনগুলোর অর্থনৈতিক কাঠামো (Economic Strategy) বা আয়ের সর্বাত্মক স্বচ্ছতা আনয়ন আজ সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। কেন্দ্র থেকে শুরু করে সংগঠনের একদম স্থানীয় শাখা পর্যন্ত সর্বস্তরে অর্থনৈতিক জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সুনির্দিষ্ট, কঠোর ও কার্যকর পলিসি প্রণয়ন করতে হবে। প্রতি অর্থবছরে আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ আয়-ব্যয়ের খাত উল্লেখপূর্বক একটি 'বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন' (Annual Financial Report) জনসম্মুখে প্রকাশ করার মাধ্যমে ছাত্রদল রাজনীতিতে স্বচ্ছতার এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। একইসাথে, সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সংগঠনের স্ট্র্যাটেজিক রূপরেখা উন্নত ও আধুনিকায়ন করা জরুরি। রাজনৈতিক যাত্রার সূচনাতেই একজন কর্মীর কর্মপন্থা ও লক্ষ্য নির্দিষ্ট করে দিতে পারলে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীর মেধানুশীলনের পথ প্রশস্ত হবে, অন্যদিকে সংগঠনও কর্মী থেকে সর্ব উৎকৃষ্ট সেবা ও আউটপুট লাভ করবে।

বিদ্যমান ছাত্ররাজনীতির অন্যতম প্রধান দুর্বলতা হলো—বৃহদার্থে কর্মীদের রাজনৈতিক ও নীতিগত প্রশিক্ষণ না দেওয়া। স্বাধীনতার মহান ঘোষক, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর কালজয়ী সেই বাণী আজও আমাদের ধ্রুবতারার মতো পথ দেখায়: "প্রশিক্ষিত কর্মীরাই রাজনৈতিক দলের প্রাণ।" গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতিতে এই বাণীর প্রাসঙ্গিকতা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংগঠনের মূল এজেন্ডা, মাঠপর্যায়ের প্রতিপাদ্য এবং আধুনিক রাষ্ট্রদর্শনের ওপর সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করতে পারলে ছাত্ররাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে বাধ্য।

আগামীর ছাত্ররাজনীতিকে বাস্তবমুখী ও কল্যাণকামী করতে হলে তৃণমূলকে সর্বোচ্চ সক্রিয় ও শক্তিশালী করা আবশ্যক। আর এই দূরহ কাজটি অত্যন্ত সহজ হয়ে উঠবে যদি সংগঠনে নিয়মিত ও গণতান্ত্রিক উপায়ে কমিটি গঠন সুনিশ্চিত করা যায়। তৃণমূল শক্তিশালী হলে ছাত্ররাজনীতির আঙিনা পেরিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে উদয় হবে অগণিত 'তরুণ তুর্কি', যাদের হাত ধরে নতুন প্রজন্মের মৌলিক ভাবনাগুলো রাষ্ট্রীয় পরিমণ্ডলে বিকশিত হবে। নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করলে কর্মী বাহিনীর মধ্যে হতাশার বদলে নতুন আশার সঞ্চার হবে এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে জোয়ার আসবে।

সর্বোপরি, ছাত্ররাজনীতি যাদের ঘিরে, সেই শিক্ষার্থীদের জন্য বহুমুখী ও কল্যাণমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর চাহিদানুযায়ী উদ্ভাবনী কর্মসূচি প্রণয়নই হবে আগামীর ছাত্ররাজনীতির মূল আলোকবর্তিকা। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যখন দেখবে ছাত্ররাজনীতি তাদের অধিকার, মেধা বিকাশ ও বিপদে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এই প্রগতিশীল ধারাকে গ্রহণ করে নেবে। আর সেই নতুন দিনের ক্যানভাসেই ছাত্ররাজনীতির সুবাস ছড়িয়ে পড়বে সমগ্র বাংলাদেশে।